লেখক রহস্য - Mati News
Tuesday, June 9

লেখক রহস্য

লেখক: সালাউদ্দিন পল্লব (প লয়ে লয়ে ব)

সকাল সাড়ে সাতটা। সারা রাত বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা গুলোর কোথাও পানি জমা, কোথাও কোথাও কাদা হয়ে।আছে।  মিরপুর সেকশন ৬ এ  রহস্য গল্প লেখক টুটুল  পারভেজ  সাহেবের বাসায় চারপাশে প্রচুর হট্টগোল। শ’খানেক উৎসুক মানুষ দাড়িয়ে আছে। দুটো পুলিশের গাড়িও আছে। আশেপাশের বিল্ডিংয়ের মানুষগুলোও কেউ জানালা, ব্যালকনীর গ্রীলের ফাঁক গলে পারভেজ সাহেবের একতলা বাড়ির ভেতরে কি ঘটেছে দেখার চেষ্টা করছে। সেন্ট্রি টাইপ ক’জন পুলিশ সদস্য বারবার বাশি বাজিয়ে উৎসুক মানুষ গুলোকে সরিয়ে দেয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের দুজন বড়কর্তা এসে ঢুকেছেন বাড়ির ভেতর। পারভেজ সাহেব ইদানিংকালের বেশ জনপ্রিয় একজন রহস্য লেখক।

পুলিশের বড়কর্তা দুজন বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে এলেন। তাদের গম্ভীর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভেতরে নিশ্চই কোন অঘটন ঘটেছে! তারা বারবার ওয়াকিটকিতে কথা বলছেন আর তাদের মোবাইল ফোন বেজেই যাচ্ছে। এরই মধ্যে বাইরে রটে গেলো পারভেজ সাহেব খুন হয়েছেন! লেখার টেবিলে তার ডেডবডি পাওয়া গেছে। তিনি পেন্সিলে লেখালিখি করতেন। কেউ পেন্সিল দিয়ে তাকে খুন করেছে। ঠিক লেখালিখি করার অবস্থায় উপুর হয়ে পরে আছেন তিনি। ডান হাতটা কাগজের উপরে রাখা, তার মধ্যে উল্টো করে ধরা পেন্সিল আর তার উপরেই পরে আছে মাথাটা। দেখলেই বোঝা যায় পেন্সিলের মাথাটা সরাসরি ডান চোখ দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেছে অনেক খানি।

টেবিল টা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে নিলেন আশ্চর্য। পেশায় একজন গোয়েন্দা। বেশ কিছু কেইসে কুল-কিনারা করতে না পারা পুলিশকে সাহায্য করে নাম করে নিয়েছেন। পারভেজ সাহেব কে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন। খবরটা শুনেই দ্রুতই পৌছে যান ঘটনাস্থলে। যতদুর জানেন পারভেজ সাহেবের কোন শত্রু নেই। নিতান্তই ঘরোয়া একজন মানুষ। সারাদিন লেখালেখি নিয়েই থাকেন। ডিম ভাজি, আলু ভাজি আর ডাল তার প্রতিদিনের খাবার। নিজেই রান্না করেন। এলাকার কোন দোকানে বাকি নেই। প্রতিবেশী কারো সাথেই তেমন যোগাযোগ নেই। বাসায় একজন ছুটা বুয়া কাজ করেন তাও সপ্তাহে দুদিন আসেন শুধু ঘরমোছা আর বাথরুম পরিস্কার করার জন্য। পারভেজ সাহেব তার ব্যবহার করা  থালাবাসন আর কাপড় চোপড় নিজেই পরিস্কার করেন। আজ দিন বুধবার। তার মানে কাজের বুয়া গতকাল এসে ছিলো। টেবিলে আবার তাকালেন আশ্চর্য। কি যেনো একটা অদ্ভুত লাগছে তার। ব্যাপারটা আত্মহত্যা নাকি খুন? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে সে।

আহা! ধুর! এই মাথা নিয়ে গোয়েন্দাগিরি করে নাকি কেউ? শালা বালের গোয়েন্দা! চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পরেন টুটুল পারভেজ সাহেব। প্লট টা স্বপ্নে পেয়েছিলেন। একটু এগোনোর পরেই ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় জোর করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অনেকটা চুইংগাম টেনে লম্বা করার মত। কিন্তু সেটাও তো এক সময় ছিড়ে যায়। যেমনটা তার স্বপ্নের হয়েছে। খুব মেজাজ খারাপ পারভেজ সাহেবের। মোবাইলে বুড়ো আঙ্গুল ছোয়াতেই স্ক্রীন অন হয়ে দেখালো রাত বাজে  আড়াইটা। ইদানিং তার গোয়েন্দা গল্পের বেশ কাটতি। আশ্চর্য নামের গোয়েন্দার কারসাজি ছেলে-বুড়ো সকলের মনে বসে গেছে।  কিন্তু এতো দিন ধরেও ছেলেটার মাথা পাকানো গেলো না! কাল্পনিক চরিত্র হয়েছে তো কি হয়েছে, তার তো ভালো করেই জানা উচিত যে পারভেজ সাহেব বাম হাতে লেখেন। পেন্সিলটা বাম হাতে থাকলে বরং ভাবা যেতো যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পেন্সিল তো ডান হাতে ধরা! বিছানা থেকে উঠে লেখার টেবিলে বসলেন পারভেজ সাহেব। স্বপ্নে ঠিক যেভাবে টেবিলটা সাজানো ছিলো সেভাবে সাজালেন। টেবিলের ড্রয়ার থেকে নতুন একটা পেন্সিল বের করে সার্প করলেন। পেন্সিলটা বাম হাতে নিয়ে লেখা শুরু করলেন, ” সকাল সাড়ে সাতটা। মিরপুর…..  ” জানালা দিয়ে এক ঝটকা বাতাস এসে কাগজ উড়িয়ে নিলো তার। বাইরে খুব ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। জানালাটা লেখার টেবিলের সাথেই। পারভেজ সাহেব উঠে জানালা বন্ধ করলেন। একটা সিগারেট খাওয়া যেতে পারে। মাথাটা ঠিক কাজ করছে না। আবার ওয়েদারটাও অসাধারন। পারভেজ সাহেব টুক করে এক কাপ চা বানিয়ে ফেললেন। তারপর টেবিলের কাছে এসে আবার জানালা খুলে দিলেন। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি। তার বাসার সামনের রাস্তায় পানি জমে গেছে। চেয়ারটা ঘুরিয়ে জানালার দিকে মুখ করে বসলেন পারভেজ সাহেব। তার বাম হাতে সিগারেট আর ডান হাতে চায়ের কাপ। পা দুটো তুলে দিয়েছেন জানালায়। বৃষ্টি এসে পা ভিজিয়ে দিচ্ছে তার। অন্যরকম একটা অনুভূতি। গল্পটা আজকে রাতেই শেষ করতে হবে।

টুং টুং করে বেল বাজিয়ে এই মুসলবৃষ্টির মধ্যে একটা রিক্সা চলে গেলো। যাবার আগে পলিথিন সরিয়ে হুডের ভেতর থেকে কে যেনো একজন মাথা বের করে পারভেজ সাহেবের জানালার দিকে তাকিয়ে দেখলো। পারভেজ সাহেবও ব্যাপারটা লক্ষ্য করেন। তিনি আবার চেয়ার ঘুড়িয়ে বসেন লেখার টেবিলে। কোথায় যেনো বেড়াল ডাকছে। ডাকার লক্ষন শুনে মনে হচ্ছে বেচারা বৃষ্টি থেকে বাচার কোন উপায় পাচ্ছে না। পারভেজ সাহেব আবার মোবাইলে সময় দেখলেন। ভোর সাড়ে চারটা বাজে। তিনি লেখা শুরু করলেন।

সকাল সাড়ে সাতটা। সারা রাত বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা গুলোর কোথাও পানি জমা, কোথাও কোথাও কাদা হয়ে আছে।  মিরপুর সেকশন ৬ এ  রহস্য গল্প লেখক টুটুল  পারভেজ  সাহেবের বাসায় চারপাশে প্রচুর হট্টগোল। শ’খানেক উৎসুক মানুষ দাড়িয়ে আছে। দুটো পুলিশের গাড়িও আছে। এরই মধ্যে বাইরে রটে গেছে পারভেজ সাহেব খুন হয়েছেন!  কেউ পেন্সিল দিয়ে তাকে খুন করেছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *