কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন: মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় একমঞ্চে চীন, রাশিয়া ও ভারত - Mati News
Wednesday, September 23

কিরগিজস্তানে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন: মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় একমঞ্চে চীন, রাশিয়া ও ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শুরু হয়েছে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতারা। মার্কিন আধিপত্য মোকাবিলায় এই সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেছেন। এই আলোচনার সময় পুতিন উল্লেখ করেন যে, মস্কো চীনের সঙ্গে ভিসামুক্ত ব্যবস্থা স্থায়ী করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এছাড়া মঙ্গলবার এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরুর আগে পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে নিজেদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

২০০১ সালে চীন, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ মিলে একটি নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরাম হিসেবে এসসিও প্রতিষ্ঠা করেছিল। গত ২৫ বছরে সংস্থাটির পরিধি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানসহ মোট ১০টি দেশ এর সদস্য। এছাড়া আরও অনেক দেশ এই সংস্থার সঙ্গে ‘সংলাপ অংশীদার’ হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

চীন ও রাশিয়া এসসিওকে জি৭-এর মতো পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত সংগঠনগুলোর একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বেইজিং গত কয়েক বছরে সংস্থাটির প্রভাব বাড়াতে আর্থিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, সংস্থাটি আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন ও সফল পথ তৈরি করেছে। রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিকল্প বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণা প্রচার করে আসছে।

তবে এসসিও কোনো একক রাজনৈতিক বা সামরিক জোট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব স্বার্থ ও রাজনৈতিক অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য এই সম্মেলন বড় কোনো বাস্তব অর্জনের চেয়ে কৌশলগত বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর উপস্থিতিতেও ভারত এই ফোরামে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে।

কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক দিনকর পেরি বলেন, এসসিও ভারতকে এমন একটি অঞ্চলে আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দেয়, যা বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। এই ফোরামের মাধ্যমে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর দিয়েছে অনলাইন কোরিয়া হেরাল্ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এর লক্ষ্য ও কর্মসূচি এখনো অনেকটাই অস্পষ্ট এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এর পরিচিতিও তুলনামূলকভাবে কম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্লেষকরা বলছেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে এবং প্রত্যেক দেশের নিজস্ব স্বার্থও আলাদা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *