মথুরা-বৃন্দাবনে বিশাল মন্দির চত্বর গড়ার ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথের - Mati News
Sunday, September 6

মথুরা-বৃন্দাবনে বিশাল মন্দির চত্বর গড়ার ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথের

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরবর্তী সময়ে কাশী ও মথুরার ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে হিন্দুত্ববাদী মহলের দাবির প্রেক্ষিতে মথুরা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন যে, অযোধ্যা ও কাশীর ধাঁচে মথুরা-বৃন্দাবনেও একটি বিশাল মন্দির চত্বর গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, অযোধ্যা ধামে বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির নির্মিত হয়েছে এবং এবার মথুরা-বৃন্দাবনেও একই ধরনের বিশাল পরিকাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে ব্রজভূমির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। তার এই ঘোষণার ফলে দীর্ঘদিনের ‘কাশী-মথুরা’ ইস্যুটি আবারও সামনে চলে এসেছে। হিন্দুত্ববাদীদের একাংশ কাশীর জ্ঞানভাপী ও মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদকে ঘিরে দাবি জানিয়ে আসছে এবং এসব স্থাপনা ভেঙে সেখানে ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণের দাবিও রয়েছে।

সনাতন ধর্মের সহনশীলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ উল্লেখ করেন, অতীতে ভারতের ওপর বহুবার বিদেশি আক্রমণ হয়েছে এবং জোর করে অন্য ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সনাতন ধর্মকে কেউ মুছে ফেলতে পারেনি। তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫ হাজার বছর আগের বাণী স্মরণ করে ‘পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম’ শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন। তিনি শুভ শক্তির সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের ঐক্য ও বিশ্বাসের ক্ষতি করতে চাওয়া সমাজবিরোধী শক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রদান করেন।

মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি ব্রজভূমির সার্বিক উন্নয়নে একাধিক অবকাঠামোগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উত্তরপ্রদেশ ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদের নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মথুরা ও বৃন্দাবনের মধ্যকার ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে রেলবাস পরিষেবা বন্ধ করে নতুন রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিষদের সিইও লক্ষ্মী নাগাপ্পান জানিয়েছেন, সংস্কৃতি দপ্তরের ‘স্মারক মিত্র’ প্রকল্পের আদলে ব্রজ অঞ্চলে ‘তীর্থ মিত্র’ নামে নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অথচ বর্তমানে ভগ্নপ্রায় ২০০টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও স্মৃতিসৌধ চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া ব্রজ চৌরাশি ক্রোশ পরিক্রমা উন্নয়ন প্রকল্প আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বহুতল পার্কিং নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ডরমিটরি, ক্যাফে ও ফুড কোর্ট থাকবে। হায়দরাবাদের হার্টফুলনেস ফাউন্ডেশন গোবর্ধন পরিক্রমা পথে পুণ্যার্থীদের জন্য ১০টি গল্ফ কার্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বৃষ্টির সময় পথ পিচ্ছিল হওয়া রোধে পরিক্রমার পথগুলো মসৃণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মথুরার নোনা জলের সমস্যা সমাধানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়াতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নতুন পুকুর খননের ওপর জোর দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। এছাড়া উৎসবের মৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল বাড়ানো হবে এবং ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। শহর পরিষ্কার রাখতে দুই দফায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘বাবরি পহেলা ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’—করসেবক ও সংঘ পরিবারের ব্যবহৃত এই স্লোগানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রজ অঞ্চলের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্য সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *