যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত পোস্টার: ভারতীয়দের নিশানা করায় তীব্র নিন্দা - Mati News
Thursday, September 10

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত পোস্টার: ভারতীয়দের নিশানা করায় তীব্র নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের উদ্দেশ্যে ‘নিজেদের দেশে ফিরে যান, নতুবা পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন’—এমন বার্তা সম্বলিত একটি নতুন প্রচারণামূলক পোস্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘ট্রান্সফর্মার্স’-এর আদলে তৈরি এই পোস্টারে ‘মি. সিং’ নাম ব্যবহার করে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয়দের সরাসরি নিশানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পোস্টারটিতে লেখা হয়েছে, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যান। মি. সিং, আপনি কীভাবে গাড়ি চালাতে হয় তা জানেন না।’ বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রেক্ষাপটে এমন প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি এই পোস্টারকে অন্যায্য জাতিগত প্রোফাইলিং হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, পোস্টারে ‘ট্রান্সফর্মার্স’ সিরিজের শৈলী ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ফক্স সেভেন নিউজের সংবাদ পাঠক অ্যালেক নোলাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে সিং পদবিধারী ব্যক্তিদের জন্য অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার নিজের দাদা ও প্রপিতামহের যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবনের ইতিহাস রয়েছে, তাই সরকারের এমন প্রচারণাকে তিনি বর্ণবাদী ও নিচু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন।

জানা গেছে, এই বিতর্কিত প্রচারণাটি মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘সিবিপি হোম’ কর্মসূচির অংশ। এই কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে ইচ্ছুক অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরার যাত্রার খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২ হাজার ৬০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। টাইমস নাউ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সরকারি উদ্যোগটিই বর্তমানে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছে।

অভিবাসন নীতি নিয়ে এমন কড়া বার্তা এবং নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তৈরি করা পোস্টারটি নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি এখন কেবল আইনি বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি মার্কিন সমাজে জাতিগত বিদ্বেষের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *