ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলার তীব্রতায় ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, হরমোজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের তথ্যমতে কুহেস্তাক গ্রামের বাসিন্দারা এই হামলার শিকার হয়েছেন।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক এবং বান্দার লেঙ্গেহ শহরেও হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফত শহরের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও মার্কিন বাহিনী আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার বান্দার আব্বাসের পূর্বদিকে হরমোজগান প্রদেশে এবং কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে ও হরমুজ প্রণালির দিকে বেশ কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। যদিও পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু জুলাই মাসে নৌপথে চলাচল নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে দুই সপ্তাহব্যাপী বোমা হামলা ও নৌ অবরোধ শুরু করে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি কারিগরি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির দাবি নাকচ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার রাতে সবশেষ দফার মার্কিন হামলার পর এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় ৫০ জনের বেশি বাসিন্দা আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে গেছে।




















