হিমালয়ের দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ফল, আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর - Mati News
Tuesday, September 1

হিমালয়ের দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ফল, আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

হিমালয় অঞ্চলে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্যোগকে কেবল একটি সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি একে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করে এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসে কাদাপানি ও পাথরের ঢলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে নেমে আসা ঢল কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না। এটি ছিল হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল ধসের ফল, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্যোগ। যদিও এই ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি যে বহুগুণ বেড়েছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে যে নতুন নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় এই অঞ্চলকে এখন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের দায় অত্যন্ত নগণ্য হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম মাশুল দিতে হচ্ছে প্রায় তিন কোটি মানুষের এই দেশটিকে। সীমিত সম্পদ নিয়ে এই বিশাল দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেপালের এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা জোরালোভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে বালেন্দ্র শাহ বলেন, এখন সময় এসেছে বিশ্ববাসীর কাছে এই অঞ্চলের ভঙ্গুর পরিবেশের চিত্র তুলে ধরার। হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার হিমবাহগুলো প্রায় ২৪ কোটি মানুষের পানির প্রধান উৎস। এছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই হিমবাহের পানির ওপর নির্ভরশীল।

এর আগে ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং একে ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল একে পার্বত্য পরিবেশের চরম ভঙ্গুরতার এক বিধ্বংসী স্মারক হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে, এই দুর্যোগের মধ্যেও নেপালের এক প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩৯ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপাল সরকার বলছে, এ দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক পরিণতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে নেপালকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনিতেই নেপালের অর্থনীতি চাপে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *