প্রবাসী ও রেমিট্যান্স আয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম: পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য - Mati News
Wednesday, September 9

প্রবাসী ও রেমিট্যান্স আয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম: পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৫০ লাখ ৫৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী চট্টগ্রাম বিভাগের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, বিদেশে অবস্থানরত চট্টগ্রাম বিভাগের নাগরিকের সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৫২ জন। গত দুই বছরে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ। জাতীয় পর্যায়ে প্রবাসী আয় গ্রহণকারী পরিবারগুলোর ৩৫.২ শতাংশই চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।

প্রবাসী আয় গ্রহণকারী পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ পল্লি অঞ্চলকেন্দ্রিক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পল্লি অঞ্চলের ১৬.৬ শতাংশ পরিবার রেমিট্যান্স গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় এ হার ৮.৭ শতাংশ এবং পৌরসভা বা অন্যান্য শহরাঞ্চলে তা ১২.৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২১.৯২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২২ সালে ছিল ২১.২৯ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২.১০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্তমানে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা পাচ্ছেন; যার মধ্যে ২.৫ শতাংশ সরকারি এবং ব্যাংকগুলো নিজস্ব উদ্যোগে আরও ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে চট্টগ্রামে, যা প্রায় ৩২ শতাংশ। ওই সময়ে দেশে মোট ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যার মধ্যে ১৬১ কোটি ডলার এসেছে চট্টগ্রাম জেলা থেকে। গত অর্থবছরের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ বা ৫৯৬ কোটি ডলার এসেছে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলা থেকে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের বিদেশ যাত্রায় এগিয়ে থাকার পেছনে উচ্চ অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সম্পদের সহজলভ্যতা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরে চট্টগ্রাম জেলা থেকে ৬৪ হাজার ২০২ জন বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, চট্টগ্রাম জেলার কর্মীরা মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, আজমান, দুবাই এবং কাতার ও ওমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিদেশ যাত্রার তালিকায় চট্টগ্রাম জেলা বর্তমানে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানে উচ্চ আয়শ্রেণির মানুষ বেশি, এসব এলাকার সম্পদের দামও বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ যত সহজে বিদেশে যেতে টাকা সংগ্রহ করতে পারেন, অন্য জেলার মানুষের পক্ষে তা কষ্টসাধ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *