নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে সরিয়ে নেওয়া আড়াই হাজারের বেশি ব্লক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সম্মিলিত উদ্যোগে উদ্ধার হওয়া এই ব্লকগুলো এখন পুনরায় নির্ধারিত স্থানে বসানোর কাজ চলছে। পাউবো নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাঁধ থেকে সরিয়ে নেওয়া মোট ২ হাজার ৬৪৪টি ব্লকই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এগুলো পুনরায় বসানোর পর পানি নেমে গেলে সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে শক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
ব্লক চুরির ঘটনা ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
- ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে উত্তর বরান্তর বাজারের পাশে চিকাডুবি হাওর এলাকায় বাঁধের প্রায় ২৫০ মিটার অংশ থেকে ব্লক খুলে নেওয়ার ঘটনা শুরু হয়।
- পরদিন বিষয়টি পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয় এবং ২৩ আগস্ট পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন মোহনগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
- পুলিশ স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে ব্লকগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। এরপর স্থানীয়রা নিজেরাই নৌকায় করে ব্লকগুলো ফিরিয়ে দেন।
- উদ্ধার হওয়া ব্লকগুলোর মধ্যে কেউ সেগুলো গোয়ালঘরে, কেউ মাচার নিচে, আবার কেউ হাওরে নামার সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করেছিলেন।
পাউবো সূত্র জানায়, চরহাইজদা উপপ্রকল্পের এই ফসল রক্ষা বাঁধটির মোট দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার। ডিঙ্গাপোতা হাওরের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ আশপাশের কয়েকটি হাওরের ফসল রক্ষায় এই বাঁধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধের ক্ষতিসাধন হাওরের কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ব্লক ফেরত দেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি অনুধাবন করে ব্লকগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক। বাঁধের এসব ব্লকের ওপর হাওরের ফসলের নিরাপত্তা নির্ভর করে, তাই ভবিষ্যতে বাঁধের সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।




















