সেপ্টেম্বরেই দেশে আসছে আড়াই লাখ টন সার, রবি ও বোরো মৌসুমে সংকট এড়ানোর প্রস্তুতি - Mati News
Sunday, September 6

সেপ্টেম্বরেই দেশে আসছে আড়াই লাখ টন সার, রবি ও বোরো মৌসুমে সংকট এড়ানোর প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সার আমদানিতে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, বর্তমানে তা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনায় রেখে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই বিদেশ থেকে সাতটি জাহাজে প্রায় আড়াই লাখ টন সার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে দেড় লাখ টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি), ৬০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) এবং ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি ও ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আসছে। এর মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর একটি টিএসপি ও একটি ডিএপি জাহাজ এবং ১১ সেপ্টেম্বর আরও একটি টিএসপি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টনের দুটি চালানে মোট ৭০ হাজার টন এবং কানাডা থেকে ৪০ হাজার টনের দুটি চালানে ৮০ হাজার টন এমওপি সার আসছে। এই চারটি চালানের মধ্যে দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে পথে রয়েছে এবং বাকি দুটি ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছাবে।

বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে ডিএপির চাহিদা প্রায় ১১ লাখ ২৭ হাজার টন। এর বিপরীতে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলমান। এমওপির চাহিদা ৬ লাখ ৭২ হাজার টনের বিপরীতে প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন এবং টিএসপির ৫ লাখ ১৯ হাজার টনের চাহিদার বিপরীতে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন সার জিটুজি চুক্তির আওতায় আলোচনাধীন রয়েছে। বিএডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২টি জাহাজ আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং অক্টোবরের চালানের লোডিং প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বছরের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই এই সময়ে হয়ে থাকে, যখন শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ, ভুট্টা ও বোরো ধানের আবাদ চলে। তাই চাহিদার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরবরাহ ও মজুদ বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

এর আগে আমন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংকটের অভিযোগ উঠেছিল, যার মধ্যে কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম থেকে কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, সার আমদানি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় সার আনা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব ও কাতার থেকে আমদানি ব্যাহত হলেও বর্তমানে বিকল্প উৎস থেকে সার সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে সার আমদানিতে এখন আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তী চালান নিশ্চিত করতে দ্রুত ঋণপত্র খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *