উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনের নিংসিয়া হুই স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলের হেলান পর্বতমালা। সেখানে সম্প্রতি চার ঘোড়ায় টানা রথের একটি বিরল শিলাচিত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এ এলাকায় এ ধরনের শিলাচিত্র আবিষ্কারের ঘটনা এটিই প্রথম। এর ফলে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক শূন্যতাও পূরণ হলো।
পলল সঞ্চিত পাখার মতো ভূমি বা অ্যালুভিয়াল ফ্যান এলাকায় আংশিক মাটিচাপা একটি বড় পাথরের ওপর শিলাচিত্রটি পাওয়া যায়। ঘন ঘাসে ঘেরা পাথরটির মাত্র প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার মাটির ওপরে ছিল। ফলে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
হেলান মাউন্টেইনস রক আর্ট সার্ভে দলের সদস্য সু সিয়াওলং বলেন, ‘প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি এটি চার ঘোড়ায় টানা রথের চিত্র। কারণ পাথরের খোদাই করা দাগ ও বাইরের পৃষ্ঠের মধ্যে রঙের পার্থক্য ছিল। পরে আমি চক দিয়ে নকশাটি এঁকে স্পষ্ট করি। তখনই আমরা বুঝতে পারি, এতে চারটি ঘোড়া রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শিলাচিত্রটির একটি অংশ ভেঙে গেছে।‘
শিলাচিত্রটির আকার ২৪ বাই ২০ সেন্টিমিটার। এতে খোদাই করা দাগগুলোর গভীরতা প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার।
এই আবিষ্কারের ফলে একই ধরনের বিষয়বস্তুর শিলাচিত্রের ক্ষেত্রে একটি শূন্যতা পূরণ হয়েছে। একই সঙ্গে হেলান পার্বত্য অঞ্চলের শিলাচিত্রের সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্য ও স্বাতন্ত্র্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
হেলান মাউন্টেইনস রক আর্ট অফিসের সাংস্কৃতিক নিদর্শন ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপ্রধান চ্যাং সু বলেন, ‘আমরা যে শিলাচিত্রগুলো পেয়েছি, তার মধ্যে দুই ঘোড়ায় টানা রথের চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এখানে এই প্রথম আমরা চার ঘোড়ায় টানা রথের শিলাচিত্র আবিষ্কার করলাম। প্রকৃতপক্ষে, পুরো চীনেই চার ঘোড়ায় টানা রথের শিলাচিত্র বেশ বিরল। এগুলো সাধারণত বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন তৃণভূমির সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এ ধরনের চিত্র দেখা যায়। কোনো উপজাতীয় প্রধান বা উচ্চ মর্যাদার ব্যক্তি চার ঘোড়ায় টানা রথে চলাচল করতেন।‘
সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, এই শিলাচিত্রগুলো ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার বছর আগের। চার ঘোড়ায় টানা রথের এই শিলাচিত্রটির সুনির্দিষ্ট সময়কাল বর্তমানে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ছেনির দাগ, বিষয়বস্তু, খোদাইয়ের কৌশল এবং সামগ্রিক নকশার ভিত্তিতে করা মূল্যায়নে মনে করা হচ্ছে এট নিওলিথিক যুগের নয়।
চ্যাং বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটি ব্রোঞ্জ যুগের শেষ দিকের হতে পারে। সম্ভবত বসন্ত ও শরৎকাল এবং যুদ্ধরত রাজ্যসমূহের যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ৭৭০ অব্দ -২২৪ অব্দ) অথবা হান রাজবংশের (খ্রিস্টপূর্ব ২০২ অব্দ-২২০ খ্রিস্টাব্দ)-এর সময়ের। ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় বসবাসকারী যাযাবর জনগোষ্ঠী এটি তৈরি করেছিল।‘
২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ হেলান পর্বতমালায় প্রাচীন বাসিন্দাদের তৈরি ২০ হাজার -এর বেশি প্রাচীন শিলাচিত্র রয়েছে। তারা পাথর, ধাতব সরঞ্জাম বা খনিজ রঞ্জক ব্যবহার করে এসব চিত্র তৈরি করেছিল। এসব শিলাচিত্রে মানুষের মুখ, প্রাণী ও হাতের ছাপের মতো প্রাকৃতিক নানা বিষয় থেকে শুরু করে পশুপালন, শিকার ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মতো প্রাচীন জীবনের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সূত্র: সিএমজি

















