চীন ও ফ্রান্সের উচিত কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করা: ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে ওয়াং ই - Mati News
Tuesday, September 15

চীন ও ফ্রান্সের উচিত কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করা: ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে ওয়াং ই

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারোর মধ্যে গতকাল (সোমবার) ফোনালাপ হয়েছে।

ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন-ফ্রান্স সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে এবং উন্নয়নের গতি বজায় রেখেছে। চলমান জটিল ও অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন ও ফ্রান্সের উচিত কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করা এবং যৌথভাবে বিভিন্ন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।

সেপ্টেম্বরে নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ক্রমিক সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণে ফ্রান্সের পদক্ষেপকে চীন সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে বলেও জানান ওয়াং। নিরাপত্তা পরিষদকে যথাযথ ভূমিকা পালনে ফ্রান্স উৎসাহিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ওয়াং ই আরও বলেন, চীন-ফ্রান্স সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বের রাজনৈতিক ভিত্তি হলো এক-চীন নীতি। চীন আশা করে, ফ্রান্স সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এ নীতি মেনে চলবে, তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকবে এবং সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনো ভুল সংকেত দেবে না।

ওয়াং ই আরও বলেন, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত অংশীদারত্ব সমুন্নত রাখা, পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতায় অবিচল থাকা এবং উন্মুক্ততা বজায় রাখা।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং এতে ভোক্তারা উচ্চমানের সাশ্রয়ী পণ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং সবুজ জ্বালানি সম্পদে রূপান্তরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ওয়াং ই বলেন, চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার এবং চীনের উন্নয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি সুযোগ, কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়। কৌশলগত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একটি বড় দেশ হিসেবে ফ্রান্স বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক অবস্থান নেবে বলে আশা করে চীন। সেই সঙ্গে ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চীনের সঙ্গে একই পথে কাজ করতে, চীনের উন্নয়নকে আরও সঠিকভাবে দেখতে এবং চীন-ইইউ সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বারো বলেন, গত বছর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর চীন সফরের পর থেকে দুই দেশ পারস্পরিক বিনিময় ও মতপার্থক্য দূরে রেখে অভিন্নতা খোঁজার চেতনায় সংলাপ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি মেনে চলবে। বর্তমানে ইইউ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে ইইউ ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক আদান-প্রদান উৎসাহিত করতে ফ্রান্স আগ্রহী বলেও জানান বারো।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *