জাপানের কিয়োদো নিউজ গতকাল (শনিবার) জানিয়েছে যে, জাপান সরকার চলতি বছরের মধ্যে ‘নিরাপত্তা তিন নথি’ সংশোধনের জন্য অক্টোবরের শেষ থেকে নিরাপত্তা নীতি সম্পর্কিত প্রচার জোরদার করার পরিকল্পনা করছে এবং বিভিন্ন বয়সের জনগোষ্ঠীর জন্য ভিন্নমুখী প্রচার গ্রহণ করবে। এই পদক্ষেপ জাপানে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের লক্ষ্য করে জাপান সরকার ইন্টারনেট ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিডিও প্রকাশ করার, টোকিও মেট্রো এবং টোকিওর শিবুয়া ক্রসিংয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া যায়; মধ্যবয়সী ও প্রবীণদের লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশন ছাড়াও শপিং মলে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে নিরাপত্তা ও পরিবার এবং জীবনের নিরাপত্তার মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
জাপান সরকার চলতি বছরের মধ্যে ‘নিরাপত্তা তিন নথি’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে ‘নতুন ধরনের যুদ্ধ পদ্ধতি’ এবং ‘টেকসই যুদ্ধ সক্ষমতা’ ইত্যাদি বিষয় মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংশোধনে ‘প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বৃদ্ধি’ করার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি সরকারের প্রচারকে জনগণকে নির্দিষ্ট নীতি সমর্থনে প্ররোচিত করার বিষয় হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তা যুদ্ধপূর্ব জাপানের পরিস্থিতির স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে পারে এবং এর ফলে বিরোধিতা দেখা দেবে।
জাপানের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সুনাসাকি সুসুমু বলেন, জাপানে যুদ্ধপূর্ব সময়ের অনুরূপ ঘটনা দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিকীকরণ, দেশীয় জনমত ক্ষেত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল গোষ্ঠীকে পরিত্যাগ, প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি জনগণের শত্রুতামূলক মনোভাব উস্কে দেওয়া ইত্যাদি। জাপান সরকার এই সময়ে প্রচার কাজ জোরদার করার লক্ষ্য হলো সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগ্রগামী সৈনিক’ হিসেবে কাজ করা যায়।
সূত্র: সিএমজি



















