বেইজিংয়ে জাপানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচার সমিতির প্রধানের সঙ্গে ওয়াং ই’র বৈঠক - Mati News
Tuesday, September 29

বেইজিংয়ে জাপানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচার সমিতির প্রধানের সঙ্গে ওয়াং ই’র বৈঠক

সেপ্টেম্বর ২৯: গতকাল (সোমবার) বেইজিংয়ে, জাপানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচার সমিতির প্রধান তাকেশি ইওয়ায়া এবং চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ বিভাগের পরিচালক ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, এক বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠককালে ওয়াং ই বলেন, জিসিএপিআইটি জাপানের বেসরকারি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম এবং বরাবরই জাপান ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে ভুমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে, চীন-জাপান সম্পর্ক যখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এবং সম্পর্কের যখন অবনতি ঘটছে, তখনও জিসিএপিআইটি চীনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি সুরক্ষা করে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান ইয়োহেই নাগাহারা একজন বিবেক রাজনীতিবিদ, যিনি সাহসের সাথে জাপানের অতীতের অন্ধকার ইতিহাস স্বীকার করেন এবং আত্মসমালোচনা করেন। তাঁর আচরণ চীন ও প্রতিবেশীদেশগুলোর জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

ওয়াং ই বলেন, কেবল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলে নতুন ভবিষ্যত গড়ে তোলা সম্ভব। চলতি বছর টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী। জাপানকে আবারও ইতিহাসের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘শান্তি সংবিধান’-কে চ্যালেঞ্জ করে বা আগ্রাসনের ইতিহাস অস্বীকারের অপচেষ্টা করে, তাহলে জাপান বিশ্বের মোকাবিলা করতে সক্ষম নয় এবং এর কোনো ভবিষ্যৎও নেই।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর চীন ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কঠোর পরিস্থিতিতে পড়েছে, যা পুনরায় স্বাভাবিক করা দরকার। জাপানের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, তাইওয়ান ইস্যুতে দেশের নেতার ভুল আচরণ ও কথা ঠিক করা; ঐতিহাসিক ইস্যুতে সঠিক মনোভাব পোষণ করা; এবং চীনের প্রতি যৌক্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ ধারণা গঠন করা। জাপানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচার সমিতিসহ বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিরা ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব বজায় রেখে জাপানকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।

জবাবে তাকেশি ইওয়ায়া বলেন, জাপান-চীন বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে প্রতি চিন্তিত। জাপানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচার সমিতি সাবেক প্রধান ইয়োহেই নাগাহারার শেষ ইচ্ছা অনুসরণ করে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকায়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। জাপানের উচিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া, রাজনীতিবিদদের উচিত জাপানকে সঠিক শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে পরিচালিত করা।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *