দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক প্রধান বড় ভাষা মডেলগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বিকৃত তথ্য সরবরাহ করছে। কিছু বড় মডেলের কথোপকথনে দেখা গেছে সেগুলো স্পষ্টভাবে ভুল ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন উত্তর দিচ্ছে—যেমন ৭ জুলাইয়ের ঘটনাকে (লুগোউ সেতুর ঘটনা) ‘জাপান-চীন সামরিক সংঘাত’ বলে অভিহিত করা, নানচিং গণহত্যাকে ‘নানচিংয়ের পতন’ বলে হালকা করা, এবং জাপানের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আক্রমণকে ‘দক্ষিণাঞ্চলের সম্পদের প্রতি আগ্রহ’ বলে তুলে ধরা হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক বিকৃত করা থেকে শুরু করে এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি, তথ্য বিকৃতকরণ—জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো তাদের আগ্রাসী ইতিহাসকে মুছে ফেলতে নিচ্ছে নানা কৌশল। এসব অপচেষ্টায় লুকিয়ে থাকা বহুমাত্রিক বিপদ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত সতর্ক হওয়া।
এ বছর টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী। ঐতিহাসিক কারণে জাপানি সামরিকবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়নি। জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক সংশোধনবাদ অনুসরণ করে আসছে, প্রকাশ্যে টোকিও ট্রায়ালের ঐতিহাসিক রায়কে অস্বীকার করছে এবং আগ্রাসনের অপরাধ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যবিকৃতির চেষ্টা এর বড় উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান সরকার বারবার ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক বিকৃত করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে, জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো এআই ব্যবহার করে তাদের আগ্রাসী ইতিহাসকে তড়িঘড়ি করে মুছে ফেলার কাজ শুরু করেছে।
জাপানের ‘আসাহি শিমবুন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলো ক্রাউডসোর্সিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে লোক নিয়োগ করছে এবং জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করছে।
দেশটির ডানপন্থী শক্তিগুলো তাদের তৈরি ভুল ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি বৈশ্বিক এআই ভাষা ভান্ডারে ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যাতে প্রযুক্তিগত উপায়ে আগ্রাসী ইতিহাসকে ব্যাপক আকারে বিকৃত করা যায় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে বিশ্বের জনগণকে বিকৃত তথ্য দেওয়া যায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাজেট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে জাপান ‘বিদেশি কৌশলগত তথ্য প্রচার’ নামে মোট ৫৬ বিলিয়ন ইয়েনেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে, যা চীনের বিরুদ্ধে জনমত কলঙ্কিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। জাপানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিরক্ষা নীতি ব্যুরোর অভ্যন্তরে তথাকথিত ‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’-এর জন্য একটি বিশেষ বিভাগ তৈরির পরিকল্পনা করছে।
জাপান সরকারের চলমান কার্যকলাপ থেকে দেখা যায়, ‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’ চালনার আরও গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে। তা হলো পুনঃসামরিকীকরণকে সমর্থন করা এবং তথাকথিত রাষ্ট্রীয় স্বাভাবিককরণ অর্জনে জনমত তৈরি করা।
‘প্রতিরক্ষা শক্তি প্রস্তুতি পরিকল্পনা’র খসড়ার মূল বিষয়গুলো প্রকাশ করেছে জাপানি গণমাধ্যম, যা দেখায় আগামী পাঁচ বছরে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট ৭০ থেকে ৮০ ট্রিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত হবে।
সম্প্রতি, জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসার সংস্থার সভাপতি ইওয়া তাকেশি চীন সফরের পর বলেন, চীন-জাপান সম্পর্কের অবনতি জাপানের কারণেই। জাপান সরকারের উচিত এটি উন্নত করার উপায় খোঁজা।
জাপানের অভ্যন্তরেও এমন কণ্ঠস্বর রয়েছে যারা জাপান সরকারের ঐতিহাসিক দায় এড়ানোর নীতির সমালোচনা করে বলছে, এটি জাপানের চীননীতিকে ভুল পথে নিয়ে গেছে। জাপানের ক্ষমতাসীনদের উচিত এই ন্যায়ের কণ্ঠস্বর শোনা এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে আত্মসমালোচনা ও সংশোধন করা।
সূত্র: সিএমজি

















