ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, সিএমজি বাংলা: জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ড টেবিল’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে চীনের প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সমন্বয় বাস্তব-ভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকি পূর্বাভাস, আগাম সতর্কীকরণব্যবস্থা, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনায় চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।‘
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কার্যকর আগাম সতর্কীকরণব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চীন পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস, আগাম সতর্কীকরণ অবকাঠামো ও জরুরি ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।‘
ঢাবি উপাচার্য আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, গবেষণাকেন্দ্র এবং বিশেষ করে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।‘
ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে এমন সহযোগিতা গড়ে উঠবে, যা শুধু মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও টেকসই উন্নয়নে বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি ফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, অর্থনীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার বিষয়টিও সামনে আসে।
ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ এবং একাডেমিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হলে দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।‘
তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করছে। এসব অংশীদারত্ব শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বাস্তব উন্নয়নমূলক সহযোগিতার পথও তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা দুই দেশের শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা।




















