ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ: ১১ কর্মীর বিচার শুরু, তদন্তে ৩২ অভিযোগে জড়িত - Mati News
Friday, September 11

ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ: ১১ কর্মীর বিচার শুরু, তদন্তে ৩২ অভিযোগে জড়িত

ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যাকার্তা শহরের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে শিশুদের নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে ১১ কর্মীর বিচার শুরু হয়েছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার স্থানীয় আদালতে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলাটি লিটল আরেশা ডে-কেয়ার কেন্দ্রকে ঘিরে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই থেকে ছয় বছর বয়সী বেশ কয়েকজন শিশুকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন শিশুকে দরজার সঙ্গেও বেঁধে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনাটি পুরো ইন্দোনেশিয়া জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে আসায় দেশটিতে ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, শিশুদের শাস্তি দেওয়ার নামে তাদের খাবার থেকে বঞ্চিত করা, পানিতে মাথা ডুবিয়ে দেওয়া এবং পা বেঁধে রাখার মতো অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। এসব ঘটনার কারণে অনেক শিশু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ভয়ের মতো লক্ষণ দেখা গেছে বলেও জানানো হয়েছে। মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডে-কেয়ার কেন্দ্রটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দিয়াহ কুসুমাস্তুতির বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতনে নির্দেশ দেওয়ার এবং লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে এ ঘটনায় মোট ৩২ জনকে সন্দেহভাজন বা আসামি করা হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, নতুন করে আরও ১৪ জনকে আসামি করায় মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা ২৭-এ দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ৩২ হয়েছে। পুলিশের অভিযানের পর ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

ইন্দোনেশিয়ার আইনে এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। শিশুদের নিরাপদে রাখার কথা যেখানে, সেই ডে-কেয়ারেই নির্যাতনের অভিযোগ ইন্দোনেশিয়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন আদালতের বিচার ও রায়ের পাশাপাশি দেশটির ডে-কেয়ার ব্যবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *