প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশ: সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষায় সাত সংগঠনের প্রতিবাদ - Mati News
Friday, August 28

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা বন্ধের আইনি নোটিশ: সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষায় সাত সংগঠনের প্রতিবাদ

দেশের বিনোদন অঙ্গনে প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিতে পাঠানো আইনি নোটিশের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রোমান্টিক ঘরানার নাটক বা সিনেমা নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি কোনোভাবেই সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ধরনের উদ্যোগ টেলিভিশন ও বিনোদন শিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন। এছাড়া ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান মানিকও এই প্রতিবাদে সংহতি জানিয়েছেন।

সংগঠনগুলোর মতে, বাংলাদেশের অডিও-ভিজ্যুয়াল শিল্প দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি সৃজনশীল মাধ্যমের নির্দিষ্ট ধারা বন্ধের দাবি জানালে তা অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে হুমকির মুখে ফেলবে। তবে সংগঠনগুলো একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও স্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন সরকারের তিন সচিব—মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এই আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশদাতার অভিযোগ, বর্তমান নাটক ও চলচ্চিত্রে অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্ট এবং পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের চিত্রায়নের ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এসব কনটেন্ট যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

আইনি নোটিশে সংবিধানের ২১(১), ৩৯ ও ২৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, বাক্‌স্বাধীনতা থাকলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে এবং জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নোটিশদাতা দাবি জানিয়েছেন, প্রেমভিত্তিক কনটেন্টের পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করতে হবে। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করতে বলা হয়েছে, অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ অবস্থায় যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পীর মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নোটিশদাতার দাবি, এসব কনটেন্টে পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সমাজের প্রচলিত নৈতিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *