বাইরে কোনো শব্দ নেই, তবু কানে শোঁ শোঁ? হতে পারে... - Mati News
Saturday, August 15

বাইরে কোনো শব্দ নেই, তবু কানে শোঁ শোঁ? হতে পারে…

চারপাশ একেবারে নীরব। কিন্তু আপনার কানে যেন একটানা শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে। কখনো আবার গুনগুন, ঘণ্টার শব্দ কিংবা অদ্ভুত কোনো আওয়াজ। আশপাশের কেউ সেই শব্দ শুনতে পাচ্ছে না, অথচ আপনার কানে তা স্পষ্ট।

এমন অভিজ্ঞতাকে বলা হয় টিনিটাস। এটি নিজে কোনো রোগ নয়; বরং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার একটি উপসর্গ। টিনিটাস সাধারণত এক কানে অনুভূত হলেও দুই কানেও হতে পারে।

কেমন শব্দ শোনা যায়?

টিনিটাসের শব্দ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। কারও কানে শোঁ শোঁ বা গুনগুন শব্দ হয়, আবার কেউ ঘণ্টাধ্বনির মতো শব্দ শুনতে পারেন। শব্দটি সারাক্ষণ থাকতে পারে, আবার নির্দিষ্ট সময় পরপরও দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভুগলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কাজে মনোযোগ দেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। এমনকি দীর্ঘস্থায়ী টিনিটাস মানসিকভাবে হতাশ করে তুলতে পারে।

কেন হয় টিনিটাস?

এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কানে অতিরিক্ত ময়লা জমা, মধ্যকর্ণে পানি জমা, অন্তঃকর্ণের বিভিন্ন সমস্যা, মেনিয়ার্স ডিজিজ, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও টিনিটাস হতে পারে।

কানে আঘাতের পাশাপাশি উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া এবং মাইগ্রেনের মতো সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ু বা মস্তিষ্কসংক্রান্ত কারণও থাকতে পারে।

টিনিটাসের আবার ভিন্ন ধরন রয়েছে। সাধারণ ধরনের টিনিটাসে শুধু রোগীই শব্দটি শুনতে পান। অন্যদিকে শরীরের ভেতর তৈরি হওয়া কিছু শব্দের ক্ষেত্রে চিকিৎসকও স্টেথোস্কোপ দিয়ে তা শুনতে পারেন। আবার কিছু রোগীর নির্দিষ্ট সময় পরপর কথা বা কোলাহলের মতো শব্দ শোনার ঘটনাও ঘটতে পারে, যা আলাদা ধরনের সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।

কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?

টিনিটাসের কারণ জানতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে টিউনিং ফর্ক টেস্ট, পিওর টোন অডিওমেট্রি, টিম্প্যানোমেট্রি এবং অন্যান্য শ্রবণ পরীক্ষা। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা কিছু রক্ত পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

টিনিটাসের চিকিৎসা মূলত এর কারণের ওপর নির্ভর করে। তাই কানে শব্দ হচ্ছে বলেই শুধু শব্দ বন্ধ করার চেষ্টা না করে কেন হচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ

প্রয়োজনে হিয়ারিং এইড বা টিনিটাস মাস্কারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় হালকা রেডিও বা মিউজিকের শব্দ ব্যবহার করাও কিছু রোগীর জন্য সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, রোগীকে প্রথমেই বুঝতে হবে যে টিনিটাস সাধারণত জীবনসংহারী সমস্যা নয়। তবে এর পেছনে অন্য কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা জরুরি। তাই কানে অস্বাভাবিক শব্দ দীর্ঘদিন থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে কান-নাক-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *