বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা এবং ভবিষ্যতে নতুন বিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক, আইনি ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএমজি সারওয়ার সোমবার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গত ৩০ এপ্রিলের চুক্তির পর অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে কোনো ক্রয়চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা। এছাড়া, পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সম্ভাব্যতা এবং জনস্বার্থ মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে কোনো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএমজি সারওয়ার বিদ্যমান বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন, অর্থায়ন ব্যবস্থা ও আর্থিক দায়-দায়িত্বের তথ্য আইনসম্মত গোপনীয়তা বজায় রেখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন বিমান কেনার ক্ষেত্রে বোয়িং ও এয়ারবাসসহ অন্যান্য কারিগরিভাবে উপযুক্ত নির্মাতাদের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনা বা লিজ নেওয়ার বিকল্পগুলো তুলনামূলকভাবে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে কারিগরি সক্ষমতা, ক্রয়মূল্য, অর্থায়ন ব্যয় এবং উড়োজাহাজের পুরো জীবনচক্রের ব্যয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে বিমানের রুটভিত্তিক যাত্রী চাহিদা, আসন পূরণের হার, আয়-ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো বিস্তারিত মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও ভিসা-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের ওপর এর প্রভাবও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট—যেমন জ্বালানি সংকট, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণ এবং স্বাস্থ্য খাতের জরুরি চাহিদার কথা উল্লেখ করে উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সরকারের সম্ভাব্য ‘অপরচুনিটি কস্ট’ বা সুযোগ-ব্যয় মূল্যায়নের দাবি তোলা হয়েছে।
জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার জন্য উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সংবিধান, সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬ ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বৈধ অনুমোদন, প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন, বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড এবং যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা ও ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত বিমান কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সভা, কার্যবিবরণী, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও আর্থিক হিসাবের নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এর লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, পর্যাপ্ত মূল্যায়ন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জনগণের বিপুল অর্থ ব্যয়ের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা বাস্তবায়ন করা হলে, নোটিশদাতা সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করবেন বলে সতর্ক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, নিষেধাজ্ঞা এবং আইন অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিকার চাওয়া হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।




















