সিনচিয়াং ঘুরে এসে বাংলাদেশি সাংবাদিকের চোখে ‘সত্যের সন্ধান’ - Mati News
Saturday, June 13

সিনচিয়াং ঘুরে এসে বাংলাদেশি সাংবাদিকের চোখে ‘সত্যের সন্ধান’

আফরিন মিম

‘অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তথ্য ও বাস্তবতার আলোকেই সত্যকে সন্ধান করা উচিত। এটাই চীনের মূল দর্শন এবং যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করার সবচেয়ে বড় উপায়’। চীনের উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিনচিয়াং প্রথমবার সফর করে এসে সিনচিয়াং ডেইলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের প্রবীণ সাংবাদিক আল মামুন হারুন উর রশিদ।

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে সিনচিয়াংকে নিয়ে একপাক্ষিক ও নেতিবাচক প্রচারণাই দেখে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষ। তবে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নিউ নেশন’-এর এই সাংবাদিকের সাম্প্রতিক সিনচিয়াং সফর সেই চেনা বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে। পশ্চিমা চশমা সরিয়ে সরাসরি সিনচিয়াংয়ের স্থিতিশীলতা, দ্রুত বিকাশমান পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনযাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ।

এবারের সফরটি হারুন উর রশিদের চতুর্থ চীন সফর হলেও, সিনচিয়াংয়ে এটিই ছিল তার প্রথম পদার্পণ। এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূগোল নিয়ে আগে থেকেই তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে সেখানে গিয়ে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তিনি জানান, পশ্চিমা মিডিয়া সিনচিয়াংয়ের যে চিত্র দেখায়, বাস্তবতার সাথে তার আকাশ-পাতাল তফাত। এখানকার স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।

সিনচিয়াংয়ের জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো সমাজ বা মানবতা মেনে নিতে পারে না। অতীতে এই অঞ্চলে যে সহিংসতার চ্যালেঞ্জ ছিল, তা মোকাবিলা করে সব স্তরের মানুষকে এক ছাতার নিচে এনে শান্তি ফিরিয়েছে প্রশাসন। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বর্তমানে চীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক ভয়হীনভাবে সিনচিয়াংয়ে ঘুরতে আসছেন।

বাংলাদেশি পাঠকরা কেন সিনচিয়াং নিয়ে পশ্চিমা সংবাদ সহজেই বিশ্বাস করে— সাক্ষাৎকারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে হারুন উর রশিদ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের চোখের সামনে ২০টি নিউজ পোর্টাল বা মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট সুরেই কথা বলে, আর তার বিপরীতে মাত্র একটি মিডিয়া ভিন্ন কিছু বলে, তবে মানুষ ওই ২০টি মিডিয়ার কথাই বিশ্বাস করবে। বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেই দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা মিডিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে’।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভাষার একটি বড় বাধা রয়েছে। চীন তাদের সত্য গল্পগুলো নিজেদের ভাষায় লিখলেও তা সাধারণ বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছায় না। কারণ সবাই ইংরেজি বা চীনা ভাষা পড়তে পারেন না। তাই এই শূন্যতা পূরণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে বাংলা ভাষায় সিনচিয়াংয়ের আসল তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা জরুরি। যখন মানুষ দুই পক্ষের তথ্যই হাতে পাবে, তখন তারা নিজেরাই সত্য-মিথ্যা বিচার করতে পারবেন।

‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ এবং সিনচিয়াংয়ের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন এই সাংবাদিক। ভৌগোলিকভাবে সিনচিয়াং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, যার সাথে আটটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। ফলে এটি ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সাথে যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান হাব।

সিনচিয়াংয়ের কৃষি ও পশুপালন খাত পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সভ্যতার মূলে রয়েছে কৃষি ও ধান চাষ। সিনচিয়াং যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাল এবং নানারকম শাকসবজি উৎপাদন করছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।

পাশাপাশি, সিনচিয়াংয়ের উন্নত ডেইরি শিল্প ও অর্গানিক মিল্ক প্রোডাক্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গুঁড়োদুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। চীন আমাদের অনেক কাছাকাছি দেশ এবং সিনচিয়াং দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য একটি বিশাল কেন্দ্র। ফলে এই খাতে বাংলাদেশ ও সিনচিয়াংয়ের মধ্যে চমৎকার বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে’।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের গণমাধ্যমের এই মেলবন্ধন আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আরও বেশি সংখ্যায় সিনচিয়াং সফর করবেন এবং কোনো অন্ধবিশ্বাস বা চাপিয়ে দেওয়া মতবাদে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য গল্পগুলো বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।

সূত্র: সিএমজি

C:\Users\USER\Downloads\Sequence 04.01_15_39_11.Still027.jpg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *