আফরিন মিম: পৃথিবীর শীতলতম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। বরফে ঢাকা দুর্গম এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সেই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন বৈজ্ঞানিক অভিযান শুরু করেছে চীন। হাইনান প্রদেশের সানইয়া শহর থেকে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে দেশটির ৪৩তম অ্যান্টার্কটিক বৈজ্ঞানিক অভিযান।
এবারের অভিযানে গুরুত্ব পাচ্ছে মেরু অঞ্চলে গবেষণার অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য অ্যান্টার্কটিকায় চীনের গবেষণা স্টেশন ও সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। পাশাপাশি মহাদেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত হবে বহুমাত্রিক বৈজ্ঞানিক জরিপ ও পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ।
মেরুবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন গবেষণাক্ষেত্রগুলোতেও বিশেষ গুরুত্ব দেবে চীনা গবেষক দল। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পরীক্ষা ও ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে মেরু অঞ্চলে গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতাও জোরদার করতে চায় চীন।
এ অভিযানে সহযোগিতা করছে চীনের দুটি বরফভাঙা গবেষণা জাহাজ—সুয়েলং ও সুয়েলং-২। সঙ্গে রয়েছে আরও একটি জাহাজ। এসব জাহাজের মাধ্যমে দুর্গম বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলে গবেষক, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়া হবে।
অভিযানে অংশ নিচ্ছেন চীনের শতাধিক দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ৬০০ জনেরও বেশি গবেষক ও কর্মী। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অ্যান্টার্কটিকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবায়ু এবং মেরুবিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা পরিচালিত হবে।
শুধু নিজস্ব গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না চীনের এ উদ্যোগ। বিজ্ঞান ও লজিস্টিক সহায়তার ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক মেরু গবেষণায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব কাজ সম্পন্ন করে ২০২৭ সালের এপ্রিল নাগাদ গবেষক দলটির চীনে ফিরে আসার কথা রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি





















