জাতিসংঘ সনদের ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ মোছা যাবে না, এটি অপরিবর্তনীয়: চীন - Mati News
Tuesday, September 29

জাতিসংঘ সনদের ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ মোছা যাবে না, এটি অপরিবর্তনীয়: চীন

সেপ্টেম্বর ২৯: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে জাপানের বক্তব্যের জবাবে পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছে চীন। ২৮ সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সনদের ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’-এর এখনও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব তাৎপর্য রয়েছে। তাই এটি মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করা যাবে না।

জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী উপপ্রতিনিধি সুন লেই বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর জাপান তার বক্তব্যে দাবি করেছে, জাপান একটি ‘শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র’ হিসেবে ‘শুধু আত্মরক্ষার নীতি’ অনুসরণ করে। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ সনদের ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। চীন এর দৃঢ় বিরোধিতা করে।

সুন লেই বলেন, জাপান সামরিকতাবাদের অপরাধ স্বীকার করে এবং জাতিসংঘ সনদের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু মেনে নেওয়ার শর্তে জাতিসংঘে যোগ দিয়েছিল। যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ‘শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র’ ধারণাটি ইতিহাসের গভীর পর্যালোচনা এবং সামরিকতাবাদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ছিল।

তবে ৮০ বছরেরও বেশি সময় পর, সানায়ে তাকাইচি সরকার জাপানের ঐতিহাসিক অপরাধ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তথাকথিত হুমকির মিথ্যা বর্ণনা তৈরি করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও অস্ত্র সম্প্রসারণের প্রচেষ্টাকে আড়াল করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান ধারাবাহিকভাবে সামরিক বাজেট বড় আকারে বাড়িয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির বিধিনিষেধ শিথিল করেছে, মধ্যম ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে, আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারিত করেছে, বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল পারমাণবিক উপাদান মজুত করেছে, ‘শান্তি সংবিধান’ সংশোধনের প্রচার চালিয়েছে এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির তিন নীতি’ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এমনকি ‘যুদ্ধে সক্ষম’ রাষ্ট্র হওয়ার পক্ষেও আওয়াজ উঠছে দেশটিতে।

এসব বাস্তবতা প্রমাণ করে যে জাপানের ‘পুনরায় সামরিকীকরণ’ আঞ্চলিক এমনকি বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও বাস্তব হুমকি তৈরি করছে।

সুন লেই বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষা করা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের অর্জন সংরক্ষণ করা এবং অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক সমাজের অভিন্ন দায়িত্ব।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। এর উদ্দেশ্য ফ্যাসিবাদ ও সামরিকতাবাদকে আবারও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা থেকে বিরত রাখা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া। চীনের মতে, বর্তমান সময়েও এই ধারার গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব তাৎপর্য রয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জাতিসংঘ সনদের ৫৩, ৭৭ ও ১০৭ অনুচ্ছেদে থাকা এই ধারাগুলোর বিষয়ে একই অবস্থান জানিয়েছে।

সুন লেই আরও বলেন, এ বছর টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী। এ প্রেক্ষাপটে চীন জাপানের ডানপন্থী শক্তিগুলোকে সতর্ক করে বলছে—আন্তর্জাতিক দায়িত্ব মেনে চলা, সামরিকতাবাদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে চলাই জাপানের জন্য সঠিক পথ।

তিনি বলেন, জাপানের ক্ষমতাসীনদের উচিত ইতিহাসের দিকে সঠিকভাবে তাকানো, গভীরভাবে আত্মপর্যালোচনা করা এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাজের আস্থা অর্জন করা।

চীন বিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে জাপানের ‘রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক করার’ আড়ালে ‘নতুন ধরনের সামরিকতাবাদ’ বাড়িয়ে তোলা, অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা এবং বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠার প্রবণতা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে বলেও জানান সুন লেই।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *