চীনের তাইওয়ান পুনরুদ্ধারের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে চীনের ফুচৌ শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সিম্পোজিয়াম । রোববার পূর্ব চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের এ আয়োজনে তাইওয়ান প্রণালির দুই পারের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সম্মেলনে ইতিহাস সংরক্ষণ, তরুণ প্রজন্মকে অতীত সম্পর্কে জানানো এবং দুই পারের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই দিন পালিত হয় দ্বিতীয় ‘তাইওয়ান পুনরুদ্ধার দিবস’। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির তাইওয়ানবিষয়ক কার্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় পরিষদের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তরের প্রধান সং থাও। তিনি বলেন, তাইওয়ান পুনরুদ্ধার দিবস চালুর মধ্য দিয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় চীনের দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের মানুষকে জাপানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনের প্রতিরোধযুদ্ধের ইতিহাস ও চীনা জাতির চেতনা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড ও বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং জাতীয় পুনরেকত্রীকরণের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তাইওয়ান পুনরুদ্ধার স্মারক সমিতির মহাসচিব ছিউ ছিহ-শিয়েন জানান, তাইওয়ানের ইতিহাস নিয়ে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন তারা। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথি ও উপকরণ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অতীত সম্পর্কে জানতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন কমিউনিটি ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের কাছে ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে অতীতে দেশের ও জাতির জন্য তরুণদের সংগ্রামের ঘটনাগুলো তুলে ধরতে চান তাঁরা।
চীনের কুওমিনতাং (কেএমটি) দলের সাবেক চেয়ারপারসন হুং শিউ-ছু বলেন, তাইওয়ানের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের, ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পাওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই পারের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বাড়বে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরাও ইতিহাস স্মরণ, ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষণ এবং দুই পারের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
সূত্র: সিএমজি




















