চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের আমদানি-রপ্তানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে চীন। গতকাল বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশটির পণ্য বাণিজ্যের মোট আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আমদানি ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।
শুধু সেপ্টেম্বরেই আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে, যা প্রথমবারের মতো ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের সীমা ছাড়িয়েছে। এ মাসে বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যে পরিমাণ ও গুণগত মান—উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে এবং ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—দ্রুত প্রবৃদ্ধি, নতুন চালিকাশক্তির বিকাশ, বাণিজ্য কাঠামোর উন্নয়ন এবং ভারসাম্যপূর্ণ অগ্রগতি।
প্রথমত, গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ত্রৈমাসিক ও মাসিক—উভয় হিসাবেই প্রবৃদ্ধির হার সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে চীনের ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। পণ্য বাণিজ্যে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হিসেবে চীন নিজের অবস্থানও ধরে রেখেছে।
দ্বিতীয়ত, নতুন চালিকাশক্তির বিকাশ। সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় উন্নত উৎপাদনশিল্প সম্মেলনে শিল্পের বুদ্ধিমান প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও সমন্বিত উন্নয়নের দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হয়। চীনের উন্নত উৎপাদনশিল্পের সম্প্রসারণ, শিল্পব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের সমন্বিত বিকাশ বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার করছে।
চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম উৎপাদনশিল্প বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রপ্তানির অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে এ খাতের অবদান থেকে।
শিল্প রোবট, বৈদ্যুতিন উপাদান, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে চীনের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
তৃতীয়ত, বাণিজ্য কাঠামোর উন্নয়ন। চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের কাঠামো ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত বাণিজ্যের কার্যকারিতা ও গুণগত মানও বাড়ছে।
প্রথম তিন প্রান্তিকে আমদানির প্রবৃদ্ধির হার রপ্তানির চেয়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল, যা বাণিজ্যের আরও ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশে সহায়তা করেছে।
এ সময়ে চীন ১২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, এমন অংশীদারদের ৭০ শতাংশেরও বেশি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উভয় দিকেই বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে মুক্ত বাণিজ্যের সুফল আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো উপকৃত হচ্ছে।
বৈদেশিক বাণিজ্য চীনের অর্থনীতির প্রাণশক্তি ও গতিশীলতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা। চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যে চালিকাশক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং উন্নয়নের গতি বেড়েছে। এতে চীনের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ভিত্তি ও প্রবণতা অটুট থাকার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। পুরো বছরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের মতো আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা চীনের রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি
















