প্রাথমিক পর্যায় থেকেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট ক্লাসরুম, কম্পিউটার শিক্ষা ও চীনা ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করছে চীন। দুই দেশের বন্ধুত্বকে কেবল চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় শামসুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত স্কুলে চীনের অনুদান সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এবং প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন বাংলাদেশের চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওফেং-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে চীনের সহযোগিতায় স্মার্ট ক্লাসরুম ও প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সিপিসির মন্ত্রী লিউ হাইসিং এবং শিক্ষামন্ত্রী মিলন।
সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মিলন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর করতে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ শুরু করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সেগুলোর সব বাস্তবায়িত হয়নি। তবে চীনের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই স্মার্ট ক্লাসরুম, কম্পিউটার শিক্ষা ও চীনা ভাষা শেখানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু করার উদ্দেশ্য হলো সমাজের তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।‘
সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশটির শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতি তাকে মুগ্ধ করেছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ধারাবাহিকতায় গত মাসে তিনি চীনের সঙ্গে শিক্ষাখাতে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।‘
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন।‘
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে চীনা মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: সিএমজি 




















