মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই সংকট নিরসনে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট মনে করেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি এখন সময়ের দাবি।
এক ভাষণে এরদোয়ান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, জায়নবাদ বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল কেবল সামরিক আগ্রাসনই চালাচ্ছে না, বরং যারা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় কাজ করছে, তাদেরও সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এরদোয়ান। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের আইনবহির্ভূত নীতি এবং নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার প্রবণতার বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত দুর্বল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের তথাকথিত গণহত্যার নেটওয়ার্ক কোনো ধরনের মূল্যবোধ বা সীমারেখা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই নীরবতা বা অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং অঞ্চলজুড়ে বিরাজমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এরদোয়ানের এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তুরস্ক বরাবরই ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছে এবং যেকোনো আঞ্চলিক সংকটের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ বলে তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।




















