বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগে নতুন নিয়ম: পরীক্ষা ও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক - Mati News
Monday, September 14

বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগে নতুন নিয়ম: পরীক্ষা ও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক

বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ের পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ও করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মূলত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যেই এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার এবং ক্যাশ অফিসারের মতো এন্ট্রি পদগুলোতে নিয়োগের সময় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবশ্যই ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট, চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্ম এবং অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করতে হবে। এসব পদে নিয়োগের জন্য অনলাইন বা সশরীর উপস্থিতির মাধ্যমে নৈর্ব্যক্তিক বা লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক। অভিজ্ঞদের জন্য উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের এক বছরের মধ্যে তাদের সর্বশেষ অর্জিত শিক্ষাগত সনদের সত্যতা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট থেকে যাচাই করতে হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে পুরোনো সব ব্যাংকারের শিক্ষাগত সনদ একইভাবে যাচাই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাকরিরত অবস্থায় পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া সনদও যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো সনদ ভুয়া প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কোনো ব্যাংকার অন্য ব্যাংক থেকে উচ্চতর পদে যোগ দিলে এবং পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান সনদ যাচাইয়ের প্রত্যয়নপত্র দিলে নতুন করে তা যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না। অব্যাহতি দেওয়ার সময় ছাড়পত্রে সনদ যাচাইয়ের বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।

আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিটি ব্যাংককে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদিত একটি যুগোপযোগী ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে হবে। এই নীতিমালায় নিয়োগ, পদোন্নতি, ছুটি, আচরণবিধি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, হুইসেল ব্লোয়ার পলিসি এবং স্বার্থের সংঘাত নিরসনসহ মোট ১৮টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যাংকে যোগদানের ১ বছরের মধ্যে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বশেষ অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট থেকে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। চাকরির আরও তথ্য: এসব পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে সবচেয়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরাই শুধু চাকরি পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *