আদালতকক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে বিরিয়ানি খেলেন সাহেদ, সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল ৪ অক্টোবর - Mati News
Friday, September 4

আদালতকক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে বিরিয়ানি খেলেন সাহেদ, সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল ৪ অক্টোবর

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬–এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন সাক্ষ্য গ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন আগামী ৪ অক্টোবর। মামলার সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই সময় নির্ধারণ করেন। এই মামলায় কারাগার থেকে আসামি সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয় এবং জামিনে থাকা অপর পাঁচ আসামি আদালতে হাজিরা দেন। অন্য চার আসামি হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। এছাড়া ২৩ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রিজেন্টের সাহেদকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আদালতকক্ষে বিরিয়ানি খাওয়ার ঘটনা

মামলার কার্যক্রম চলাকালে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আদালতকক্ষে এক অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যায়। বিচারক এজলাসে উপস্থিত না থাকার সুযোগে আসামি সাহেদ ও তাঁর আইনজীবী আদালতকক্ষে বসে একসঙ্গে বিরিয়ানি খাচ্ছেন। পরে আদালতের পেশকার মো. জাহিদুল জানান, সাহেদের আইনজীবী বিচারকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েই এই খাবার খেয়েছেন। খাওয়া শেষ হলে ১২টা ৪৫ মিনিটে সাহেদকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে হাজতখানায় নেওয়া হয়।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

  • ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এর উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও মো. সাহেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
  • মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়ন না করা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সই এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনা মূল্যে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেন।
  • ওই হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
  • সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, আসামিরা রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্য কর্মকর্তাদের মাসিক খাবার খরচ হিসেবে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চাহিদা তুলে ধরেন এবং এর খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেন।

২০২২ সালের ১২ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু করেন। বিচার চলাকালে আদালত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ১২ নম্বর সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলায় অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা না হলেও তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *