ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর হতে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। মঙ্গলবার রাতে জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
খাজা আসিফ জানান, প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সম্মিলিতভাবে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইয়েমেনের চলমান সংঘাত যদি বিনা উস্কানিতে সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে এই চুক্তি কার্যকর করতে পাকিস্তান দ্বিধা করবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, পাকিস্তান তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
এর আগে মঙ্গলবার হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আরামকোর বিভিন্ন তেল স্থাপনা। হামলার ফলে একটি তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এর জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে খাজা আসিফ জানান, তিনি এ ধরনের কোনো যোগাযোগের বিষয়ে অবগত নন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, হুথিরা দ্রুত তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা থেকে বিরত থাকবে।
হুথিদের প্রধান সমর্থক ইরানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বে ইরানের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও, একটি দেশের দ্বিপাক্ষিক বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে। পাকিস্তানের এই হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সমীকরণে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলতে বাধ্য এবং কোনো আগ্রাসন চালানো হলে আমরা এই চুক্তির প্রতি সম্মান জানাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ইয়েমেনে যা ঘটছে তা যদি বিনা উস্কানিতে আগ্রাসনের ফলে বা সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই চুক্তিটি কার্যকর হবে; এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হামলার পর একটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে কমপক্ষে ৭৩ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।




















