গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন শেডে প্রায় ৯ বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে দুটি চিতা বাঘ। ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকা থেকে পাচারের সময় পুলিশ দুটি চিতা বাঘ ও দুটি সিংহশাবক উদ্ধার করে। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে তখন দুজনকে আটক করা হয়। উদ্ধারের সময় চিতা বাঘের শাবক দুটির বয়স ছিল মাত্র দেড় মাস। এর মধ্যে একটির ওজন ছিল ২ কেজি এবং অন্যটির ১ কেজি ৬০০ গ্রাম; লেজসহ তাদের দৈর্ঘ্য ছিল যথাক্রমে ২৬ ও ২২ ইঞ্চি।
নিয়ম অনুযায়ী, নতুন উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের রোগজীবাণু সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা। কিন্তু সিংহশাবক দুটিকে সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হলেও চিতা বাঘ দুটিকে সেই সাময়িক কোয়ারেন্টিন শেডেই আটকে রাখা হয়েছে। ছোট একটি কক্ষের লোহার গ্রিলের ভেতর তাদের দিন কাটছে। সেখানে গাছে চড়া, দৌড়ঝাঁপ বা শিকারের মতো স্বাভাবিক কোনো পরিবেশ নেই। খাবার দেওয়ার সময় তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং দরজা খুলে দিলে তারা দুই কক্ষের মধ্যে চলাচল করতে পারে। শেডের কাছে মানুষ গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রিলের ওপর লাফিয়ে ওঠে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান জানান, দীর্ঘদিন কোয়ারেন্টিনে প্রাণীদের আটকে রাখা অযৌক্তিক। সাফারি পার্কে তাদের জন্য বড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত তাদের উপযোগী আবাসন তৈরি করে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
চিতা বাঘের এই বন্দিদশা নিয়ে বিভিন্ন সময় নির্দেশনা এলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পার্ক পরিদর্শনের সময় চিতা বাঘ দুটির জন্য উন্নত আবাসন তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর আগেও উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
পার্কের দর্শনার্থী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, পার্কে বাঘ ও সিংহ দেখার সুযোগ থাকলেও চিতা বাঘ দেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হলে দর্শনার্থীরা এই প্রাণীটিও দেখার সুযোগ পেতেন। এ বিষয়ে সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, উপযুক্ত পরিবেশের অভাব থাকায় তাদের কোয়ারেন্টিন শেডেই রাখা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল স্থানটি পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৭ সালে দেড় মাস বয়সে উদ্ধারের পর থেকে তারা সেখানেই আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাছে ওঠার সুযোগ নেই, নেই ছুটে বেড়ানোর জায়গা কিংবা শিকার করার স্বাভাবিক পরিবেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে চারটি শাবক গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর উপযোগী জায়গায় স্থানান্তর করা উচিত।




















